সংক্ষেপে উত্তর: ফেসবুক এড দেওয়ার সঠিক উপায় হলো মেটা এড ম্যানেজার (Ads Manager) ব্যবহার করা। ধাপগুলো হলো: বিজনেস পোর্টফোলিও ও এড একাউন্ট তৈরি, পেমেন্ট মেথড যোগ, ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য (objective) বাছাই, বাজেট ও অডিয়েন্স ঠিক করা, ছবি বা ভিডিও দিয়ে বিজ্ঞাপন বানানো, তারপর পাবলিশ করা। বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিলে আগে ওয়েবসাইটে ফেসবুক পিক্সেল বসিয়ে নিন।
অনেকে পেজের “Boost” বাটনে চাপ দিয়েই বিজ্ঞাপন দেন। এতে কাজ চলে, কিন্তু বিক্রির জন্য এড ম্যানেজার অনেক বেশি কার্যকর। এই গাইডে ধাপে ধাপে দেখাচ্ছি কিভাবে এড ম্যানেজার থেকে ফেসবুক এড দেয়।
শুরুর আগে যা লাগবে
- একটা ফেসবুক পেজ (এবং চাইলে ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট)।
- মেটা বিজনেস পোর্টফোলিও (আগে যার নাম ছিল Business Manager) ও একটা এড একাউন্ট।
- আন্তর্জাতিক লেনদেন করা যায় এমন কার্ড (যেমন ডুয়াল কারেন্সি কার্ড)। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক এই পেমেন্টে ১৫% ভ্যাট কেটে রাখে, তাই বাজেট হিসাব করার সময় এটা ধরুন।
- ওয়েবসাইট থাকলে সেখানে ফেসবুক পিক্সেল বসানো।
ধাপে ধাপে ফেসবুক এড দেওয়ার নিয়ম
১. এড ম্যানেজার খুলুন
adsmanager.facebook.com এ যান এবং সঠিক এড একাউন্ট সিলেক্ট করুন। সবুজ “Create” বাটনে ক্লিক করুন।
২. ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য বাছাই করুন
মেটা ছয়টা লক্ষ্য দেয়: Awareness, Traffic, Engagement, Leads, App promotion ও Sales। আপনি যা চান সেটাই বাছুন:
| আপনার লক্ষ্য | যে objective বাছবেন |
|---|---|
| ওয়েবসাইটে অর্ডার বা বিক্রি | Sales |
| মেসেঞ্জারে বা হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ | Engagement (মেসেজ) বা Sales |
| ফর্ম পূরণ বা লিড | Leads |
| বেশি মানুষের কাছে ব্র্যান্ড পৌঁছানো | Awareness |
একটা সাধারণ ভুল হলো বিক্রি চাইলেও Engagement বা Traffic বেছে নেওয়া। ফেসবুক আপনাকে ঠিক সেটাই দেবে যা আপনি চেয়েছেন: লাইক বা ক্লিক, বিক্রি নয়।
৩. বাজেট ঠিক করুন
দৈনিক বাজেট (daily budget) বা পুরো সময়ের বাজেট (lifetime budget) দিতে পারেন। শুরুতে ছোট দৈনিক বাজেট দিয়ে কয়েক দিন চালিয়ে দেখুন। কত খরচ হতে পারে জানতে পড়ুন: ফেসবুক এড খরচ কত।
৪. অডিয়েন্স ঠিক করুন
এলাকা (যেমন পুরো বাংলাদেশ বা শুধু ঢাকা), বয়স ও ভাষা ঠিক করুন। এখন মেটার সিস্টেম নিজেই বেশ ভালোভাবে ক্রেতা খুঁজে বের করে, তাই খুব সরু টার্গেটিং না করে তুলনামূলক বড় অডিয়েন্স রাখা প্রায়ই ভালো কাজ করে। পুরনো কাস্টমারদের আলাদা করতে চাইলে কাস্টমার লিস্ট আপলোড করতে পারেন।
৫. প্লেসমেন্ট
Advantage+ placements চালু রাখলে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জারসহ যেখানে ভালো ফল পাওয়া যায় সেখানে বিজ্ঞাপন দেখাবে। শুধু খেয়াল রাখুন, রিলস ও স্টোরির জন্য খাড়া (৯:১৬) ভিডিও বা ছবি দিন।
৬. বিজ্ঞাপন তৈরি করুন
পরিষ্কার ছবি বা ছোট ভিডিও দিন, প্রথম কয়েক সেকেন্ডেই মূল কথা বলুন, দাম বা অফার স্পষ্ট লিখুন, আর একটা স্পষ্ট বাটন দিন (যেমন Shop Now বা Send Message)। একসাথে কয়েকটা আলাদা ছবি বা ভিডিও দিন, যাতে কোনটা ভালো কাজ করে তা বোঝা যায়।
৭. পাবলিশ ও রিভিউ
Publish চাপার পর মেটা বিজ্ঞাপনটা রিভিউ করে। সাধারণত অল্প সময়ে অনুমোদন হয়। নীতিমালা ভাঙলে বিজ্ঞাপন রিজেক্ট হতে পারে, আর বারবার হলে একাউন্টেও সমস্যা হতে পারে। দেখুন: ফেসবুক এড একাউন্ট ডিজেবল হলে করণীয়।
বিজ্ঞাপন চালুর পর যা করবেন
- প্রথম কয়েক দিন বারবার পরিবর্তন করবেন না। নতুন বিজ্ঞাপন “learning phase” এ থাকে, বড় পরিবর্তন করলে আবার শুরু হয়।
- লাইক নয়, দেখুন প্রতি অর্ডার বা প্রতি মেসেজে কত খরচ হচ্ছে।
- যে বিজ্ঞাপন ভালো চলছে তাতে ধীরে ধীরে বাজেট বাড়ান, আর নিয়মিত নতুন ছবি ও ভিডিও যোগ করুন।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
ফেসবুক এড কিভাবে দেয়?
বুস্ট আর এড ম্যানেজারের মধ্যে কোনটা ভালো?
বাংলাদেশ থেকে ফেসবুক এডের পেমেন্ট কিভাবে করবো?
ফেসবুক এড চালাতে কি ওয়েবসাইট লাগে?
নিজে না পারলে?
আমি সাইফুর সাইফ, বাংলাদেশ থেকে ফেসবুক এড স্পেশালিস্ট হিসেবে দেশি ও বিদেশি ব্যবসার বিজ্ঞাপন চালাই। দেখুন আমার ফেসবুক এড ম্যানেজমেন্ট সেবা, অথবা ফ্রি এড অডিট নিন।