সংক্ষেপে উত্তর: গুগল এডস হলো গুগলের বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম, যা দিয়ে গুগল সার্চ, ইউটিউব, জিমেইল ও লাখো ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়। এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সার্চ বিজ্ঞাপন: কেউ যখন গুগলে আপনার পণ্য বা সেবা খোঁজে, ঠিক তখনই আপনার বিজ্ঞাপন দেখায়। সাধারণত কেউ ক্লিক করলে তবেই টাকা কাটে। গুগল এডস চালাতে ads.google.com এ একাউন্ট খুলে, লক্ষ্য ও ক্যাম্পেইনের ধরন বেছে, কীওয়ার্ড, বাজেট ও বিজ্ঞাপন ঠিক করে পাবলিশ করতে হয়।
গুগল এডস কি?
ধরুন কেউ গুগলে লিখল “ঢাকায় এসি সার্ভিসিং”। সার্চ রেজাল্টের উপরে যে লেখাগুলোর পাশে “Sponsored” লেখা থাকে, সেগুলোই গুগল এডস। ফেসবুক এডের সাথে বড় পার্থক্য হলো: ফেসবুকে মানুষ স্ক্রল করার সময় বিজ্ঞাপন দেখে, আর গুগলে মানুষ নিজেই কিছু খুঁজছে। তাই গুগলের সার্চ বিজ্ঞাপনে কেনার আগ্রহ সাধারণত বেশি থাকে।
গুগল এডসের ক্যাম্পেইনের ধরন
| ধরন | কোথায় দেখায় | কখন ভালো |
|---|---|---|
| Search | গুগল সার্চ রেজাল্টে | মানুষ যখন আপনার সেবা বা পণ্য খোঁজে |
| Performance Max | সার্চ, ইউটিউব, ডিসপ্লে, জিমেইল, ম্যাপস, সব জায়গায় | অনলাইন শপ ও বিক্রির লক্ষ্য |
| Shopping | পণ্যের ছবি ও দাম সহ সার্চে | ইকমার্স |
| Video (YouTube) | ইউটিউবে | ব্র্যান্ড পরিচিতি ও ভিডিও |
| Display / Demand Gen | ওয়েবসাইট, ইউটিউব, জিমেইলে ছবি বিজ্ঞাপন | নতুন চাহিদা তৈরি ও রিটার্গেটিং |
গুগল এডস কিভাবে চালায়: ধাপে ধাপে
১. একাউন্ট খুলুন
ads.google.com এ গিয়ে আপনার জিমেইল দিয়ে একাউন্ট খুলুন। শুরুতে গুগল “Smart mode” এ নিতে চাইতে পারে; বেশি নিয়ন্ত্রণ চাইলে Expert mode বেছে নিন।
২. কনভার্সন ট্র্যাকিং সেটআপ করুন
অর্ডার, কল বা ফর্ম পূরণকে কনভার্সন হিসেবে সেট করুন। Google Tag বা Google Tag Manager দিয়ে এটা করা যায়। ট্র্যাকিং ছাড়া গুগলের স্মার্ট বিডিং ঠিকমতো কাজ করে না।
৩. লক্ষ্য ও ক্যাম্পেইনের ধরন বাছুন
সেবা বা লিডের ব্যবসা হলে সাধারণত Search দিয়ে শুরু করা ভালো। অনলাইন শপ হলে Shopping বা Performance Max।
৪. কীওয়ার্ড বাছুন
কাস্টমার গুগলে কী লিখে খোঁজে, সেটা ভাবুন। কেনার আগ্রহ বোঝায় এমন কীওয়ার্ড বেছে নিন, যেমন “দাম”, “অর্ডার”, “সার্ভিস”, “কাছাকাছি”। যেসব সার্চে আপনার বিজ্ঞাপন দেখানো উচিত নয় (যেমন “ফ্রি”, “চাকরি”), সেগুলো নেগেটিভ কীওয়ার্ড হিসেবে দিন।
৫. এলাকা, ভাষা ও বাজেট
কোন এলাকার মানুষ দেখবে আর দৈনিক গড় বাজেট কত, তা ঠিক করুন। খরচ সম্পর্কে জানতে পড়ুন গুগল এডস খরচ কত।
৬. বিজ্ঞাপন লিখুন
কয়েকটা শিরোনাম ও বিবরণ দিন, যেখানে সার্চের কীওয়ার্ড, আপনার সুবিধা ও স্পষ্ট আহ্বান থাকবে। ফোন নম্বর, লোকেশন ও অতিরিক্ত লিংকের জন্য assets যোগ করুন।
৭. পেমেন্ট ও পাবলিশ
আন্তর্জাতিক লেনদেন করা যায় এমন কার্ড যোগ করুন। বাংলাদেশ থেকে বিদেশি প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের পেমেন্টে ব্যাংক ১৫% ভ্যাট কেটে রাখে। তারপর ক্যাম্পেইন পাবলিশ করুন।
গুগলে বিজ্ঞাপন দেওয়ার নিয়ম
- গুগলের বিজ্ঞাপন নীতিমালা মানতে হয়। বিভ্রান্তিকর দাবি, নিষিদ্ধ পণ্য বা ভুয়া অফার দিলে বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়।
- বিজ্ঞাপনের লেখা আর ল্যান্ডিং পেজের তথ্য মিলতে হবে।
- গুগল অনেক বিজ্ঞাপনদাতার পরিচয় যাচাই (advertiser verification) করতে বলে; চাওয়া হলে সময়মতো সম্পন্ন করুন।
- কিছু খাত, যেমন স্বাস্থ্য বা আর্থিক সেবা, এর জন্য বাড়তি নিয়ম থাকতে পারে।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
গুগল এডস কি?
গুগল এডস কিভাবে চালায়?
গুগল এডস নাকি ফেসবুক এড, কোনটা ভালো?
বাংলাদেশ থেকে কি গুগল এডস চালানো যায়?
গুগল এডস চালাতে সাহায্য
আমি সাইফুর সাইফ, বাংলাদেশ থেকে গুগল এডস স্পেশালিস্ট হিসেবে দেশি ও বিদেশি ব্যবসার সার্চ, শপিং ও পারফরম্যান্স ম্যাক্স ক্যাম্পেইন চালাই। দেখুন গুগল এডস ম্যানেজমেন্ট অথবা নিন ফ্রি এড অডিট। ফেসবুক এড সম্পর্কে পড়ুন এখানে।